সবার জন্য সুলভ হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট : মন্ত্রী
বর্তমান সময়ে ‘ইন্টারনেট’ মানুষের জীবযাত্রায় ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে কাজ করছে। আর এই ‘জীবন-শক্তি’কে নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বলেছেন, এই সুবিধা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আগামী একবছরের মধ্যে প্রতিটি মোবাইল টাওয়ার ৪জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইভার ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক দ্বীপ, চর ও হাওরসহ দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে। সবার জন্য সুলভ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে (৮ ডিসেম্বর) রাতে আন্তর্জাতিক সংস্থা এলায়েন্স ফর এ্রাাফরডেবল ইন্টারনেট এর উদ্যোগে আয়োজিত ওয়েবিনারে ব্রডব্যান্ড নীতিমালা বিষয়ক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে এটুআই এর সিনিয়র পলিসি এডভাইজার আনির চৌধুরী, বিটিআরসি‘র ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহসিনুল আলম,এলায়েন্স ফর এ্রাাফরডেবল ইন্টারনেট এর কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন আকবর এবং এলানুর সারপঙ বক্তৃতা করেন।
ইতোমধ্যেই ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর দেশ থেকে উৎপাদনকারি দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশে ১৪টি মোবাইল কারখানায় উন্নতমানের মোবাইল উৎপাদন হচ্ছে। বিদেশে রপ্তাানির জন্য বাংলাদেশে ৫জি মোবাইল তৈরি হচ্ছে ।
মন্ত্রী ইন্টারনেটকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার বাহন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ইন্টানেটকে রাষ্ট্রের জন্য একটি যথাযথ এবং বড় বিনিয়োগ। এরই ধারাবাহিকতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ৫৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফ্রি ওয়াই ফাই জোনের আওতায় আনা হয়। তিনি দেশে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বিকাশে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষ করে দ্বীপ, চর, হাওরসহ প্রায় সকল ইউনিয়নে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্ন্ন করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, দেশের এমন কোন ইউনিয়ন থাকবে না যেখানে উচ্চ গতির ইন্টারনেট থাকবে না। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১২৮০০ ফ্রি ওয়াই ফাই জোন গড়ে তোলা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, গত প্রায় ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে দেশে ইন্টারনেট সম্প্রসারণে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে দেশে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের দাম ছিলো ২৭০০ হাজার টাকা বর্তমানে ২৮৫ টাকা।
দেশের মানুষের জন্য ইন্টারনেট সহজ লভ্য করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমরা শিগগিরই ব্রডব্যান্ড নীতিমালা আপডেট করতে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা, উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রসারে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন।